ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা। নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সদরের মোহনা আবাসিক এলাকায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষে গণসংযোগ করেন তাঁর ছোট ভাই ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য কাজী শাহ আরফিন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগকালে কাজী শাহ আরফিন বলেন, কায়কোবাদ এলাকাবাসীরই একজন—গ্রামের ঘরের মানুষ। এলাকার মুরুব্বী ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং পুরোনো সম্পর্কের টান থেকেই আজকের এই গণসংযোগের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকার মানুষ নানা ধরনের মানসিক চাপে দিন কাটিয়েছে। মুরাদনগর সদরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার নামে অনেক তরুণকে ভয়ভীতি ও লোভ দেখিয়ে অপকর্মে জড়ানো হয়েছে। বাস্তবে এসব তরুণের অনেকেই খারাপ ছিল না; পরিস্থিতির চাপে কিংবা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ এসব অপকর্মে আনন্দ পেলেও অনেকেই অনুশোচনায় ভুগেছে। যারা বাধ্য হয়ে এসব কাজে জড়িয়েছে, তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। তবে যারা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে ও নির্যাতনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি যুব সমাজের উদ্দেশে বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যদি এলাকাবাসী চান তাঁদের গ্রাম থেকেই একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক, তবে কায়কোবাদের বিজয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, প্রবীণ নেতা জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম হুজুর, মাসুদ মিয়া, নেযামুল হক, আব্দুল বাতেন মোল্লা, বাবুল মিয়া, সাইদুল ইসলাম আসিফ, মো. সাফায়াত, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ।