মাদারগঞ্জে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৬ অপরাহ্ণ   |   ১৩৯ বার পঠিত
মাদারগঞ্জে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

মোস্তাফিজুর রহমান, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:


 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। যমুনা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলসহ উপজেলার সর্বত্র শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও গবাদিপশু নিয়ে খামারিরা।
 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল রিকশা-ভ্যানচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কাজের অভাবে পরিবার নিয়ে তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
 

উপজেলার বালিজুড়ী ও চরপাকেরদহ ইউনিয়নের যমুনা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলগুলোতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। নদী থেকে আসা হিমেল বাতাসে কাঁপছে চরবাসী মানুষ। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, শীত বাড়লেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরকারি বা বেসরকারি শীতবস্ত্র সহায়তা তারা পাননি।
 

শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এ সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
 

এদিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে ফসলের মাঠ। কৃষকরা জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আলু ও সরিষা ক্ষেতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
 

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।