কুমিল্লায় বিএনপি নেতার মানহানি মামলায় সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ গ্রেপ্তার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০২ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৯ অপরাহ্ণ   |   ৫২ বার পঠিত
কুমিল্লায় বিএনপি নেতার মানহানি মামলায় সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

 

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির এক নেতার দায়ের করা মানহানি মামলায় সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও তাকে আদালতে হাজির না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মুরাদনগর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিক আরিফের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই প্রতিবেদনে ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
 

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে উপস্থাপন না করায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের মাধ্যমে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বক্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 

গ্রেপ্তারের পর মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিফ যে একজন সাংবাদিক, সে বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
 

অন্যদিকে, পরদিন তাকে আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে সাংবাদিকরা একাধিকবার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
 

স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের প্রশ্নের যথাযথ জবাব দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
 

এদিকে, উপজেলা পর্যায়ের একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়েরের বিষয়টিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবির আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
 

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।