ঢাকা প্রেস নিউজ (বার্তা কক্ষ):-
চাঁদপুর জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট এই জলাবদ্ধতা কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিস্তার:
কৃষি: ৩২ হাজার হেক্টর জমির আংশিক এবং ১৮ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমির ধানের চারা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। ফলে সাড়ে ৪৫ হাজার কৃষক পৌনে ৭৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
মৎস্য: প্রায় ১১ হাজার পুকুর এবং ৫৫টি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। প্রায় দুই কোটি টাকার পোনা মাছ নষ্ট হয়েছে।
যোগাযোগ: নিচু এলাকার বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, মাছের খামার, আর গ্রামের পাকা ও আধাপাকা সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মানবিক ক্ষতি: ৬৪টি ইউনিয়নের ৫৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কারণ:
সরকারি উদ্যোগ:
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তালিকা তৈরি করছে। ৭০০ মেট্রিক টনের বেশি চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকেও সহায়তা দেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ করছেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা:
বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলামী, রেডক্রিসেন্ট, ইসলামী আন্দোলন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্ভোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার আবারও বৃষ্টিপাত শুরু হওয়া পানি আবারও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মতলব উত্তরে মেঘনা-ধনাগোদা সেচপ্রকল্প বেড়িবাঁধের কিছু কিছু এলাকায় ধস নেমেছে।
চাঁদপুরের এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।