সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ মে ২০২৬ ০১:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৮ বার পঠিত
সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
 

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বাদ আসর চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকায়ও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, তবে সেটির সময় ও স্থান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
 

চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
 

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট কারাগার হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।
 

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তাঁর বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন।
 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।