বেলজিয়ামকে রুখে দেওয়া কে এই ইরানি গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ?

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২২ জুন ২০২৬ ০৪:০৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
বেলজিয়ামকে রুখে দেওয়া কে এই ইরানি গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ?

স্পোর্টস ডেস্ক

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে তখন আক্রমণের ঝড় তুলেছিল কেভিন ডি ব্রুইনা এবং লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ-দের নেতৃত্বাধীন বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল। একের পর এক বুলেট গতির শটে কাঁপছিল ইরান জাতীয় ফুটবল দল-এর রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচে বেলজিয়াম ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে কোনো গোল না থাকায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বেলজিয়ানরা।
 

কারণ, গোলপোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ইরানি গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় ইরান।
 

৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাচটিতে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। তবে তার এই সাফল্যের গল্প শুধুই একটি ম্যাচের নয়—এটি এক অনন্য জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
 

ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের এক যাযাবর কুর্দি রাখাল পরিবারে জন্ম বেইরানভান্দের। শৈশবে পাহাড়ে পাহাড়ে পশুপালনের কাজ করা সেই দরিদ্র রাখাল ছেলেই আজ ইরানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলরক্ষক।
 

এর আগে তিনি অংশ নিয়েছেন FIFA World Cup-এর একাধিক আসরে—২০১৮ ও ২০২২ সালের পর এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ।
 

বিশ্বমঞ্চে তার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে। তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-এর একটি পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচে ইরান ১-১ গোলে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল-এর সঙ্গে ড্র করে।
 

শুধু গোলরক্ষক হিসেবেই নয়, তার থ্রো ও ড্রপ-কিক দক্ষতাও তাকে আলাদা করেছে। দীর্ঘ দূরত্বে থ্রো করার কারণে তার নাম রয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও। ২০১৬ সালে তিনি প্রায় ২০০ ফুট দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড গড়েন।
 

ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন পার্সপোলিস এফসি, ট্রাক্টর এসসি, পর্তুগালের বোয়াভিস্তা এফসি এবং বেলজিয়ামের রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্প এফসি-এর হয়ে।
 

জাতীয় দলের হয়ে ৮০টিরও বেশি ম্যাচ খেলা এই তারকা ইরানের ঘরোয়া লিগে একাধিকবার সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২০১৯ সালে হয়েছেন বর্ষসেরা ফুটবলার।
 

বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে—ইরানের রক্ষণদুর্গের শেষ প্রাচীর হিসেবে এখনো অটল আছেন সেই ‘রাখাল ছেলে’ আলিরেজা বেইরানভান্দ।