ঢাকা প্রেস নিউজ
২০২৪ সালে ২৩৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হলেও মামলার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯৭টি। এই পরিস্থিতিতে শিশু আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুর সুরক্ষায় আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, শিশুকল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশু অধিদপ্তরের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
গতকাল, বুধবার, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত ‘শিশু যৌন শোষণের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সভায় শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রোকনুজ্জামান।
শিশু একাডেমির মহাপরিচালক তানিয়া খান বলেন, সরকার ডিএনও টেস্ট ল্যাবরেটরির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সমাজে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়ন প্রায়ই গোপন রাখা হয়, তবে এসব ঘটনা প্রকাশ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট করা জরুরি।
অন্যান্য বক্তারা শিশু সুরক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আলোচনায় শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার কর্মসূচি নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শিশু সুরক্ষায় সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সঠিকভাবে সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
সভায় আসক-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি এম সাখাওয়াত হোসেন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নার্গিস সুলতানা (জেবা), বিশ্বজিত দাস, টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জাহিদ হোসেন চৌধুরী। সভায় শিশু যৌন শোষণের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন টেরে ডেস হোমসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির।