ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ভারত। গৌহাটির ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে দুই দল মিলে তুলেছে ৮১১ রান। ম্যাচে একের পর এক রেকর্ড হলেও উইকেটের আচরণ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ৪০৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৩৯ বল হাতে রেখেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। অধিনায়ক শুভমন গিল ২২৩ রানে অপরাজিত থেকে গড়েন একাধিক রেকর্ড। ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়ানডেতে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ডও গড়েন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৬ বলে দ্বিশতক করেছিলেন ঈশান কিষান।
গিলের অপরাজিত ২২৩ রান ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে এবং রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এতে রান তাড়ায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২০১ ও অধিনায়ক হিসেবে বীরেন্দর শেবাগের ২১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি। রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়েছেন গিল।
ম্যাচে আরও একটি বিরল রেকর্ড হয়েছে। দুই দলের পাঁচ ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন, যা ওয়ানডের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সঙ্গে ভারতের গিল ও রোহিত শর্মা এই তালিকায় রয়েছেন। একই ম্যাচে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরি নিয়েও হারের মুখ দেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দল হিসেবে ৪০০ বা তার বেশি রান সফলভাবে তাড়া করার নজির গড়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে এত রেকর্ডের ম্যাচেও গৌহাটির উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট নন গম্ভীর। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করেছিলেন তিনি। তার মতে, উইকেটটি বোলারদের জন্য খুবই কঠিন ছিল এবং এমন পরিস্থিতিকে প্রকৃত ক্রিকেটীয় লড়াই বলা কঠিন।
বোলারদের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার না করার আহ্বানও জানান ভারতের কোচ। বিশেষ করে অভিষেকে ৮৪ রান দেওয়া আকিব নবি ও ৯৬ রান দেওয়া গুরনুর ব্রারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
গম্ভীরের ভাষ্য, এমন উইকেটে বোলারদের কাছ থেকে ভালো পরিসংখ্যান আশা করা কঠিন। তাই তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা না করে কোচ হিসেবে তিনি বোলারদের পাশে থাকার কথাই জানিয়েছেন।