
মানবসেবায় অসামান্য অবদান ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ‘লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন পটিয়ার কৃতী সন্তান লায়ন এ.কে.এম. সালাহউদ্দিন এমজেএফ। লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল এবং এর বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘মিশন ১.৫’ (MISSION 1.5)-এ বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আন্তর্জাতিক লায়ন্স প্রেসিডেন্ট এ.পি. সিং স্বাক্ষরিত স্বীকৃতিতে লায়ন সালাহউদ্দিনের মানবিক কর্মকাণ্ড, কঠোর পরিশ্রম, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়। সেখানে বলা হয়, অভাবী ও অসহায় মানুষের সেবায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা লায়ন্স সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এ.পি. সিং তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা নিজেদের মধ্য থেকেই হয়—লায়ন সালাহউদ্দিন তাঁর সাহসী উদ্যোগ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
লায়ন এ.কে.এম. সালাহউদ্দিন বর্তমানে লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫বি-৪ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি লায়নিজমের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। বাকলিয়া লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে তাঁর লায়নিজমের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্লাবটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে রিজওয়ান চেয়ারপারসন হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ২০২২ সালে লায়নিজমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘জোন রিজওয়ান অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হন। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জোন রিজওয়ান কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মানবিক সেবায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম। গত ছয় বছরে তাঁর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রায় ৬০০ দরিদ্র ও অসহায় চক্ষুরোগীর ছানি অপারেশন এবং ৩০০ থেকে ৪০০ রোগীর চোখে লেন্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় মানুষ নতুন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
শুধু লায়ন্সের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেই নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ ও পরীক্ষার ফরম পূরণে সহযোগিতা, অসচ্ছল মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা এবং বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নিয়মিত মানবিক কর্মকাণ্ডের অংশ।
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর বিশেষ অবদান। তিনি পটিয়ার মুকুট নাইট উচ্চবিদ্যালয় এবং নগরীর রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস হাইস্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে লায়ন সালাহউদ্দিন জানান, তাঁর পিতা নিজ জন্মভূমি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের তেকোটা গ্রামে নিজস্ব জমিতে সৈয়দ আবদুল মজিদ-সুলতান আহমদ ফোরকানিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি গত ৩৪ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, চাকরিজীবন শেষে একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। জীবনের অধিকাংশ সময় সন্তানদের মানুষ করতে ব্যয় করার পর বার্ধক্যে অনেক মা-বাবাকে সন্তানের সংসারে আশ্রয়হীন অবস্থায় থাকতে হয়। এমন অসহায় প্রবীণদের দুর্দশা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তাঁদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক আবাসনের ব্যবস্থা করতেই তিনি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন।
এ ছাড়া দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি মাতৃসদন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি চিন্তাভাবনা করছেন।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা আন্তরিকভাবে মানবতার সেবায় কাজ করেন, মহান আল্লাহ তাঁদের কাজের পথ সহজ করে দেন। এর প্রমাণ তিনি নিজের জীবনেও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বড় ছেলে মাত্র ২৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছে, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
ব্যক্তিজীবনে লায়ন এ.কে.এম. সালাহউদ্দিন এমজেএফ দুই পুত্রসন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পারিবারিক জীবন। মানবসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক এই সম্মাননা অর্জন করায় পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও প্রশংসা প্রকাশ পেয়েছে।