রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করতে এসে রোহিঙ্গা নাগরিক সন্দেহে শওকত হোসেন নামে এক যুবক আটক হয়েছেন। কাগজপত্র ও কথাবার্তায় অসঙ্গতি পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশে সোপর্দ করেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
সোমবার বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যান শওকত। তিনি নিজেকে উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দাবি করে নাগরিকত্ব সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন।
তবে কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি পান কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে তাকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলে তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে পীরগঞ্জে এসেছেন। ওই ব্যক্তি তাকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে পীরগঞ্জে আসার পর ওই ব্যক্তি তাকে নির্বাচন কার্যালয়ে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল নম্বরও শওকতের ফোন থেকে মুছে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকতের দেখানো কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। কাগজপত্রে থাকা স্বাক্ষর ও ইউনিয়ন পরিষদের সিল জাল করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, শওকতের কথাবার্তা ও বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়ায় শুরু থেকেই সন্দেহ হয়। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার জমা দেওয়া কাগজপত্র জাল কি না, কারা এসব কাগজ সরবরাহ করেছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক জানান, শওকতকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। টেকনাফ থেকে তাকে পীরগঞ্জে নিয়ে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।