গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ   |   ৪১ বার পঠিত
গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড

আদালত প্রতিবেদক

 

রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ১৫ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
 

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।
 

রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের বিষয়ে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করেন।
 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের আগে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল বের হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
 

এ ঘটনায় ওই দিনই গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন ১৫ আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন আদালত। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আসামিদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে।
 

বুধবার শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ওবায়দুর রহমান, লিটন মিয়াসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
 

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আসামি আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের নেতা হলেও রিমান্ড আবেদনে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক জুয়েল রানা। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা-তা লিখে পাঠিয়ে দেন।’
 

আদালত আসামিদের গ্রেপ্তারের তারিখ সম্পর্কেও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন তারিখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান। তখন বিচারক নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করায় প্রশ্ন তোলেন।
 

শুনানির সময় তদন্তের মান ও রিমান্ড আবেদনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারক বলেন, ‘কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন।’ তিনি মামলার মূল বিষয় অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন।
 

পরে শুনানি শেষে আদালত ১৫ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।