দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ   |   ৭৬ বার পঠিত
দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের

বিবিসি
 

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। বর্তমানে তিনি সচেতন এবং কথা বলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
 

৫০ বছর বয়সী পাইক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা জানান, হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে গুরুতর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
 

গত বুধবার টেনেসিতে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার জন্য দুইবার চেষ্টা করা হলেও কোনোবারই তা সফল হয়নি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকেরা তার শরীরে প্রবেশ করা রাসায়নিক অপসারণের চেষ্টা করেন।
 

পাইকের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর কোনো বন্দীর এভাবে বেঁচে থাকার ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
 

ফোর্ডহাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিজ্ঞানী ডেবোরা ডেন্নো বিবিসিকে বলেন, পাইক সচেতন হয়ে কথা বলতে পারছেন—এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। তার মতে, এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত অন্তত সাতটি ঘটনায় বন্দীরা বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ বন্দীদের শিরায় প্রবেশ করানোই সম্ভব হয়নি।
 

ডেন্নোর ভাষ্য, পাইকের ক্ষেত্রে শরীরে প্রাণঘাতী রাসায়নিক প্রবেশ করানোর পরও তিনি বেঁচে আছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি—এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
 

তবে পাইকের ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা এখনো অনিশ্চিত। তার আইনজীবীদের পরামর্শক অ্যানেসথেসিওলজিস্ট জোয়েল জিভট বলেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, নির্ধারিত মাত্রায় পেন্টোবারবিটাল স্বাভাবিকভাবে রক্তপ্রবাহে পৌঁছালে পাইকের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল।
 

জিভটের ধারণা, ওষুধটি রক্তনালিতে প্রবেশ না করে সম্ভবত ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনায় তার মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিলম্ব হওয়ায় মস্তিষ্কে ক্ষতির আশঙ্কার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
 

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পাইকের দুই হাতেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা সতর্ক করেছিলেন, পাইকের শারীরিক জটিলতা—বিশেষ করে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (থ্রম্বোসাইটোসিস) এবং ছোট শিরার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত ব্যথা ও জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে।
 

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন পাইক।
 

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, পাইকের মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না। প্রাণঘাতী ইনজেকশন কেন কাজ করেনি, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
 

এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
 

বুধবার ন্যাশভিলের একটি আদালতে পাইকের আইনজীবীদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানি শেষে আদালতের বাইরে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।