জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনগণের সহনশীলতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ   |   ৫৩ বার পঠিত
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনগণের সহনশীলতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে স্বীকার করে এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি জনগণের ‘সহনশীলতা’ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত জড়িত নেই।
 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
 

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
 

তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ কমেছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি। বর্তমান উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকি রয়েছে।
 

জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার কারণে সরকারের অন্যান্য ব্যয়েও ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং হবে। এ অবস্থায় সরকারের প্রতি জনগণের কিছুটা সহনশীলতা প্রয়োজন। কারণ, সরকারের পক্ষে সব খাতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়।
 

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করাকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। সব খাতে একসঙ্গে ব্যয় বাড়ানোর চেষ্টা করলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সরকারকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভারসাম্য করতে হয়েছে।
 

তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পরিবহন খাতে যৌক্তিক হারে ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
 

গ্যাস সংকটের কারণে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা থাকলেও অর্থবছরের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে।
 

একই হারে ভর্তুকি দিতে থাকলে অর্থবছর শেষে এ খাতে ব্যয় সোয়া এক লাখ থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
 

দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে যে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কেটে গেছে। সংকটের আগে দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ছিল, বর্তমানে সরবরাহ সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে। পাশাপাশি গ্যাস আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্য সরকার কাজ করছে।
 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের সময়েই নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন বেতন স্কেল পরিমার্জন না হওয়ায় এটিও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল। তবে পুরো বেতনকাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
 

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না। বিরোধী দলের কর্মসূচি ও এক দফা দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে এবং দায়িত্ব পালন করবে—এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে হবে।
 

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।