ঈদে যাত্রী সংকটের শঙ্কায় লঞ্চ মালিকরা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২২ মার্চ ২০২৫ ০১:৪০ অপরাহ্ণ   |   ১০০ বার পঠিত
ঈদে যাত্রী সংকটের শঙ্কায় লঞ্চ মালিকরা

মো: আমিনুল ইসলাম

 

ঈদুল ফিতরে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে ২৫ মার্চ শুরু হচ্ছে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস, যা চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে আগের বছরের মতো এবারও যাত্রী সংকটের আশঙ্কা করছেন লঞ্চ মালিকরা। পদ্মা সেতুর চালু হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে নৌপথের যাত্রী কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি......
ঈদ সামনে রেখে পুরোনো লঞ্চগুলো সংস্কার ও রঙ করে যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করা হয়েছে। তবে প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সতর্ক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল করলে রুট পারমিট ও নিবন্ধন বাতিল করা হবে। নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি থাকবে।

 

সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় কম......
গত কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বিকেলের দিকে কিছু যাত্রী এলেও, অন্য বাহনের তুলনায় লঞ্চে চাপ কম। তবে লঞ্চ মালিকদের আশা, ২৫ রোজার পর যাত্রী সংখ্যা বাড়বে।

 

পদ্মা সেতুর প্রভাব.....
২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চযাত্রী উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মহাসড়কের উন্নয়ন ও নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের নৌপথের প্রতি আগ্রহ কমেছে। বিশেষ করে বরিশাল, ভাণ্ডারিয়া ও ঝালকাঠিগামী লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একসময় ঢাকা-বরিশাল রুটে ১৮টি লঞ্চ চললেও বর্তমানে তা কমে চারটিতে নেমে এসেছে। তবে চাঁদপুর, চরফ্যাসন, লালমোহন ও বরগুনা রুটের লঞ্চগুলোতে এই সংকট তুলনামূলক কম।

 

লঞ্চের সংখ্যা কমেছে.....
লঞ্চ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, একসময় ৪৩টি নৌপথে ২২৫টি লঞ্চ চলাচল করত। এখন সেই সংখ্যা কমে ১৯০-এ দাঁড়িয়েছে, এবং বর্তমানে ৩৫টি রুট চালু রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০-৬৫টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। মালিকরা মনে করছেন, ঈদের বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হলে যাত্রী কিছুটা বাড়তে পারে।

 

নতুন লঞ্চ সংযোজন......
এবার ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে নতুন একটি আধুনিক লঞ্চ এমভি এমখান যুক্ত হচ্ছে। লঞ্চ মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক হান্নান মাহমুদ বলেন, ‘যাত্রীদের বিলাসবহুল যাত্রা নিশ্চিত করতে এবার নতুন একটি লঞ্চ চালু করা হবে।’

 

পুরোনো লঞ্চের ওপর কড়া নজরদারি.....
প্রতি বছর ঈদের আগে পুরোনো লঞ্চগুলো রঙ করে নতুন রূপ দেওয়া হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রশাসন এবার পুরোনো লঞ্চের ফিটনেস নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এটি কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।

 

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক.....
নৌ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। তবে লঞ্চ মালিকদের দাবি, যাত্রী সংকট ও খরচ বৃদ্ধির কারণে সামান্য ভাড়া বৃদ্ধি করলে তারা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

 

বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৮০০-১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ১৮০০-২০০০ টাকা। তবে ঈদের সময় ডেকের ভাড়া ৪০০, সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ এবং ডাবল কেবিন ২৪০০ টাকা করা হয়। লঞ্চ মালিকরা বলছেন, যাত্রী আকৃষ্ট করতে ভাড়া না বাড়ানোর পক্ষেই তারা।

 

নৌপথে যাত্রীসংকট থাকলেও, ঈদে বিশেষ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে যাত্রী বৃদ্ধি পাওয়ার আশা করছেন লঞ্চ মালিকরা। প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নৌপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।