গাইবান্ধায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার ভোররাতে জেলার সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে হঠাৎ তীব্র বেগে ঝড় আঘাত হানে সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়ন, ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন এবং এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে। ঝড়ে কামারজানীর খারজানী চর, বুলবুলির চর ও চর চৌমোহনী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, ঝড়ে ইউনিয়নের অন্তত ৪২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ সোলায়মান আলীর স্ত্রী তৈয়বান বেগমসহ দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নদীতীরবর্তী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঝড়ে পানিতে উড়ে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা জাল ব্যবহার করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর কাজ চলছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত খারজানী চরের বাসিন্দা আকলিমা বেগম বলেন, “ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরের টাকাপয়সা, কাপড়চোপড় কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।”
একই এলাকার জবা বেগম বলেন, “ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছি। ঘর নেই, রান্না করারও কোনো ব্যবস্থা নেই।”
ফজলুপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, চরাঞ্চলের অন্তত চার শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা এবং ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল, দোকানপাট ও বসতঘর। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জের ৫০০ পরিবার, সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের খারজানী চরের ৪২ পরিবার এবং বুলবুলির চর ও ফজলুপুর এলাকার দুই শতাধিক পরিবারকে তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।