|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৩ জুন ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০২ জুন ২০২৬ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

ডিজিটাল রেমিট্যান্সে ৭.৫ শতাংশ উৎস কর: উদ্বেগে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা


ডিজিটাল রেমিট্যান্সে ৭.৫ শতাংশ উৎস কর: উদ্বেগে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা


আমান উল্লাহ সরকার


 

 

ডিজিটাল খাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক আয়ের ওপর ৭.৫ শতাংশ উৎস কর বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পর দেশের ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর আদায় রাষ্ট্রের বৈধ অধিকার হলেও এই খাতে অতিরিক্ত করের চাপ দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং গুগল অ্যাডসেন্সভিত্তিক আয়ের খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের হাজারো তরুণ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা ও কনটেন্ট বিক্রির মাধ্যমে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, এই খাত বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিজিটাল আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক পর্যায়ে সরাসরি উৎস কর কেটে নেওয়ার ফলে অনেক আয়কারী নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাদের দাবি, অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দক্ষতা এবং নিজস্ব বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করেন। ফলে আয় দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে উৎস কর আরোপ করলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ কমে যেতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল খাত এখনও একটি বিকাশমান শিল্প। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারের পেছনে রয়েছে অফিস পরিচালনা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, কর্মী নিয়োগ এবং বিপণন ব্যয়। এসব ব্যয় বিবেচনায় না নিয়ে সরাসরি উৎস কর আরোপ করলে তাদের প্রকৃত আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

 

অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রবেশের পর তা আবাসন, ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ফলে এই অর্থ দেশে প্রবেশের সুযোগ বাড়ালে সরকার পরোক্ষভাবে ভ্যাট, নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও অন্যান্য কর থেকে আরও বেশি রাজস্ব অর্জন করতে পারে।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টিও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুবাই, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের আকৃষ্ট করতে কর সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করব্যবস্থা যদি অতিরিক্ত জটিল বা কঠোর হয়ে ওঠে, তবে উচ্চ আয়ের ডিজিটাল পেশাজীবীদের একটি অংশ বিদেশে স্থানান্তরে আগ্রহী হতে পারেন।

 

কর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচিত রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি করদাতাদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, করমুক্ত পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা অথবা ডিজিটাল রেমিট্যান্সভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালুর মতো উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

তাদের মতে, করের হার সহনীয় ও প্রক্রিয়া সহজ হলে করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর পরিশোধে আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রও অধিক রাজস্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, করনীতি শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার। তাই ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের এই সময়ে স্বল্পমেয়াদি রাজস্বের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আমান ঊল্লাহ সরকার, ট্যাক্স কনসালট্যান্ট

চেম্বারঃ বনানী হাইটস, হাউজ- ১৮, রোড -৮, বক্ল-জি, বনানী, ঢাকা। ইস্টার্ন আরজু, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা । হাউজ- ৭, রোড - ৮, সেক্টর -৯, উত্তরা, ঢাকা।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬