|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৮ জুলাই ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

এক শিক্ষকেই চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান


এক শিক্ষকেই চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান


মো. আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষকসংকটে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে একমাত্র শিক্ষককে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭০ জন। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে ১৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন। তবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়।

 

মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন একই কক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছেন। অন্যদিকে নিচের শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে অথবা শিক্ষকের অপেক্ষায় বসে রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয় বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।

 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সাদি ও লাবলু মিয়া জানায়, একজন শিক্ষককে সব শ্রেণির ক্লাস নিতে হওয়ায় প্রায়ই নিজেদের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

 

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল ও আরিফ জানায়, শিক্ষক অন্য শ্রেণিকে পড়ানোর সময় কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তারা বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায়।

 

অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষক কোনো দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে কিংবা অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

 

আরেক অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হলে বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল মমিন বলেন, গত বছর দুই শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ, সরকারি প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তরিক চেষ্টা করেও সব শ্রেণিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুকূল না হওয়ায় অনেক শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পদায়নে আগ্রহী হন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬