কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল-এ অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়া এক নারীর মরদেহ চার দিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দুর্গন্ধের সূত্র ধরে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়।
নিহত কোহিনূর আক্তার উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কাতারপ্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং ঞো জানান, হাসপাতালের সাধারণ ব্যবহৃত একটি লিফটের নিচ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরে সেখানে গর্তের ভেতর কোহিনূরের মরদেহ দেখতে পান কর্মীরা। খবর পেয়ে স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দীন জানান, কোহিনূরের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম আক্তার অসুস্থ হওয়ায় গত মঙ্গলবার তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে দুজনই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনূর ওষুধ আনার কথা বলে পঞ্চম তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার শ্বশুর আলী আকবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ওসি ছমিউদ্দীন বলেন, নিখোঁজের পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালায়। শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফটের নিচে মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। কীভাবে তিনি লিফটের নিচের গর্তে পড়লেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের ভাতিজা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চার দিন ধরে কোহিনূরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিখোঁজের দিন তিনি চারতলার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু এরপর আর বের হতে দেখা যায়নি। বিষয়টি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।