এইচ এম মাহফুজুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার:
পবিত্র হজযাত্রা উপলক্ষে চলতি বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় দেখা গেছে শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের এক নতুন দৃষ্টান্ত। সরকারের উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে নেই কোনো বড় ধরনের বিড়ম্বনা কিংবা ফ্লাইট শিডিউলের বিপর্যয়।
ধর্মমন্ত্রীর নিবিড় তদারকিতে হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছাচ্ছেন। জানা গেছে, মন্ত্রী প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত আশকোনা হজ ক্যাম্পে অবস্থান করে সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাসের মোট ৮৪টি ফ্লাইটে ৩৩ হাজার ৩১৮ জন হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশকোনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক হজ মো. লোকমান হোসেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি ক্যাম্পে টাকা চুরির ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এছাড়া খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশকোনা হজ ক্যাম্পে ব্যাপক কর্মতৎপরতা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজীরা ক্যাম্পে প্রবেশের পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা পাচ্ছেন। গেট থেকেই ব্যাগ বহন, নিবন্ধন এবং ডরমেটরিতে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
ডরমেটরিগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে এবং প্রতিটি কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক পরিদর্শনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কক্ষে কম্বল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ২০০টি কম্বল বিতরণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রত্যেক হাজীকে প্রবেশের সময় সুপেয় বোতলজাত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে লাগেজ র্যাপিং মেশিন, যার মাধ্যমে হাজীরা বিনামূল্যে মালামাল মোড়ানোর সুবিধা পাচ্ছেন।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকাতেই সম্পন্ন হওয়ায় সৌদি আরবে পৌঁছে অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং প্রতিটি কক্ষে স্প্রে সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্যানটিনসহ পুরো ক্যাম্পে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে।
হজযাত্রীরা এসব ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিরাজগঞ্জের হাজী বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী জানান, তারা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হননি। বগুড়ার হজযাত্রী আব্দুল বারিও একই ধরনের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন সংকটের কারণে কয়েকজন হাজী নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পে পৌঁছাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ধর্মমন্ত্রীর নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টরা এবারের হজ ব্যবস্থাপনাকে একটি ব্যতিক্রমী ও সফল উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।