সংঘর্ষের পর ইসলামী ব্যাংকের ভার্চ্যুয়াল পর্ষদ সভা, এমডির পদত্যাগপত্র গ্রহণ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০২ জুন ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ   |   ৫৫ বার পঠিত
সংঘর্ষের পর ইসলামী ব্যাংকের ভার্চ্যুয়াল পর্ষদ সভা, এমডির পদত্যাগপত্র গ্রহণ

দিনভর উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর অবশেষে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে।

 

সোমবার রাত ৯টায় শুরু হওয়া অনলাইন সভা প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুযায়ী নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি এমডির পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

একই সভায় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

এর আগে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে সরাসরি পর্ষদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের বিক্ষোভের কারণে নির্ধারিত স্থানে সভা আয়োজন সম্ভব হয়নি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে সভাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

 

সারাদিন মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করারও দাবি জানান তারা।

 

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা সরে না যাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আন্দোলনের চাপে নয়, বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসারেই নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে পরবর্তীতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই নিয়োগের বিরোধিতা করেই একাংশের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন।