বিনোদন ডেস্ক
পাঞ্জাবি পপ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও জেসমিন স্যান্ডলাস বলিউডে পরিচিতি পান Kick সিনেমার ‘ইয়ার না মিলে’ গানের মাধ্যমে, যেখানে অভিনয় করেছিলেন সালমান খান। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমার একাধিক গানে কণ্ঠ দেওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। এরই মধ্যে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অজানা ও কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন এই সংগীতশিল্পী।
সাক্ষাৎকারে জেসমিন জানান, মাত্র ২৩ বছর বয়সে মানসিক চাপ ও একাকীত্বের কারণে তিনি মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন। তার ভাষায়, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পান করতেন তিনি। ক্যারিয়ারের সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েন, বাবার মৃত্যু এবং পারিবারিক ভাঙন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। একসময় মদ্যপানই তার আশ্রয় হয়ে উঠলেও পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এটি তাকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলছে।
জেসমিনের শৈশবও কেটেছে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। নিউইয়র্কে শুরুতে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাতে হয় তাদের। ছয় সদস্যের পরিবার এক বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এবং রেশননির্ভর জীবনযাপন করতেন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা না থাকায় নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াও ছিল কঠিন।
ভারতে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয় তার বাবাকে। গ্যাস স্টেশনে কাজসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিবারকে এগিয়ে নিতে হয় তাকে। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে কিছুটা স্বস্তি আসে—সেখানে আদালতে দোভাষীর কাজ পান তার বাবা, ফলে ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়।
জেসমিন বলেন, তার বাবার ত্যাগ এবং মায়ের পরিশ্রমই তাদের পরিবারকে এগিয়ে নিয়েছে। জীবনের কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসতেও মায়ের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সমর্থনই তাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।
বর্তমানে নিজের জীবনধারায় পরিবর্তন এনে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছেন এই সংগীতশিল্পী। তার মতে, পরিবারের পাশে থাকাই যেকোনো সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির ‘জাইয়ে সাজনা’, ‘আরি আরি’ ও ‘ম্যায় অর তু’ গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়ে আবারও শ্রোতাদের মন জয় করেছেন জেসমিন স্যান্ডলাস।
সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার