বিশ্বজুড়ে জিনস পোশাক রপ্তানির চার দশক পেরিয়ে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর ধরে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে এই আধিপত্য বজায় রেখেছে দেশের পোশাক খাত।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই দুই বৃহৎ বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) ও ইউরোপের ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির পরিমাণ ৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দেশটিতে ডেনিম বাজারের প্রায় ২৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশের দখলে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলারের পণ্য, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। উভয় বাজারেই মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। একসময় দেশে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম মিল থাকলেও বর্তমানে তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০টিতে।
আগে ডেনিম কাপড় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন স্থানীয় মিলগুলোই চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে। উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া এবং উন্নত প্রযুক্তির ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন করায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
এছাড়া বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চীন থেকে অনেক ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হওয়া রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজন এবং আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্প এখন বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে রপ্তানির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।