বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান’ প্রতিপাদ্যে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান।

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ   |   ৭৬ বার পঠিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান’ প্রতিপাদ্যে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান।

নিউজ ডেস্ক-ঢাকা প্রেস:

 

 

৭ এপ্রিল, ২০২৬ ইং বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্‌যাপিত করার পরিকল্পনায় সাজিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সকলের প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান’ প্রতিপাদ্যে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ (Together for Health, Stand with Science)

 

দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ—এই তিনটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এদের যেকোনো একটির ক্ষতি অন্যদের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সকল প্রাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুস্থতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হয়।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বিত প্রয়োগ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রসার ঘটানোও সময়ের দাবি।

 

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, নাগরিকদের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ব্যবস্থার মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসা সহজীকরণ, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদারসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব। দিবসটি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করা হয়েছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা: 

আমি "তারেক রহমান" দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আমি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই এবং এই দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি।