থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা: আইজিপি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০১:০০ অপরাহ্ণ   |   ৮৮ বার পঠিত
থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

পুলিশের সঙ্গে জনগণের বিদ্যমান আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 

সোমবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
 

তিনি বলেন, থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
 

আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যেই জেলা সদর থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 

তিনি জানান, এসব থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য একজন সার্কেল এএসপি দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের সেবা এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে যাতে থানায় আসা মানুষ সন্তুষ্টি নিয়ে ফিরে যেতে পারেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকে। পাশাপাশি পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ও সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
 

চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। বিশেষ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
 

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ যেকোনো সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 

মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে Criminal Investigation Department (সিআইডি)–কে আরও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা পুলিশের অন্যতম অঙ্গীকার।
 

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র‌্যাবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের বড় বড় মার্কেটগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
 

এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সম্ভাব্য অসন্তোষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ, শ্রমিক নেতা এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

উগ্র মৌলবাদী তৎপরতা প্রতিরোধেও পুলিশের নজরদারি জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।
 

আইজিপি বলেন, “জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই জনগণের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”