কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে আবারও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পেছনে প্রায় ২০টি কারণ তুলে ধরেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম তার পোস্টে লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।” এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনার উল্লেখ করে দাবি করেন, এসব কারণেই আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করানো”, ডানপন্থী শক্তির উত্থান, আইনের শাসনের পরিবর্তে “মবের শাসন”, মাজারে হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে নীরবতা এবং উগ্রবাদীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানে পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

মাহফুজ আলমের প্রথম ফেসবুক পোস্ট
পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন মাহফুজ আলম। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারের বদলে “ন্যূনতম ঐকমত্য কমিশন” গঠন, আমলানির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ছাত্ররাজনীতির “লুম্পেন চরিত্রে” রূপ নেওয়া এবং মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার কারণে জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিবর্তে “সংঘতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা, নতুন মিডিয়ার অনুমোদনে বাধা, জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রক্রিয়া আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে “রিগ্রেসিভ কালচার” প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও আওয়ামী লীগের পক্ষে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।”
এদিকে তার এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে পরে আরেকটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের প্রধান কাজ হওয়া উচিত সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

মাহফুজ আলমের পরের ফেসবুক পোস্ট
সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের ওপর হামলার বিচার দাবি করে মাহফুজ আলম লেখেন, জুলাই গণহত্যার বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিচারের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি বাংলাদেশের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে” জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে একটি “কমন স্পেইস” তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।