যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। বুধবার (৩ জুন) সকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো করে রাখা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এর পরপরই সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের অতিরিক্ত সদস্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিজিবির নিয়মিত ও স্বাভাবিক টহল চলছে।
এর আগে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি না মেনেই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই উদ্দেশ্যে গত রোববার (৩১ মে) রাতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গত তিনদিন ধরে সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ঝোপঝাড়ে অবস্থান করায় ওই ব্যক্তিরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
তবে আটকে পড়া ব্যক্তিরা যে বাংলাদেশি, তার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা তথ্য দিতে পারেনি বিএসএফ। ফলে বিজিবি সাফ জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজিবির এই কঠোর ও অনড় অবস্থানের কারণেই বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি রাতের টহল ও আলো জ্বালানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকাগুলোতে এই নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে জন্ম নেওয়া বা দীর্ঘদিন সেখানে বসবাসকারী অনেকের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া মেনে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
অবশেষে বুধবার সকালে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিলে সীমান্তের তিনদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হয়।