দেশজুড়ে সরকার নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার মিলছে না। ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা হলেও বাজারে তা দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম গত মাসের চেয়ে চলতি মাসে বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। কিন্তু এই বাড়তি দামেও দেশের কোথাও এলপি গ্যাস কিনতে পাওয়া যায় না। ভোক্তাদের আরও বেশি খরচ করতে হয়।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, তাদের লোকবল কম। তাই দেশজুড়ে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। তবে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন শনিবার ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন দুই হাজার ৩০০ টাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকাভেদে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত এক সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে দুইশ থেকে তিনশ টাকা। হালিশহরের হালিম ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল হালিম বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ভোক্তাদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। সরকারের নির্ধারিত দামে কিনতে পারলে এ সমস্যা হতো না। সরেজমিন দেখা গেছে, ৩৫ কেজি সিলিন্ডার গত সপ্তাহে চার হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন পাঁচ হাজার ৫৪০ টাকায়, আর ৪৫ কেজি সিলিন্ডার পাঁচ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে সাত হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকার ৩৫ কেজির দাম এক হাজার ১৩০ টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজি এক হাজার ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ছয় হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।
কুমিল্লায় চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে ক্রেতারা দোকান থেকে দোকানে ছুটছেন। দৌলতপুর এলাকার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম দুই হাজার ১০০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন। নগরীর লাকসাম রোডে অরোরা ট্রেডার্সে ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০৯ টাকায়। উপজেলা এলাকায় দাম আরও ৩০০ টাকা বেশি।
বগুড়ায় এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ১৭২ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেঁধে দিয়েছে এক হাজার ৭২৮ টাকা, কিন্তু বাজারে এটি এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের দত্তবাড়ির বাসিন্দা রাজকুমার বলেন, এক সপ্তাহ আগেও দাম এক হাজার ৫০০ টাকার বেশি ছিল না।
বরিশালে খুচরা বিক্রেতারা সাড়ে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সরকারি বা কম দামে পাচ্ছেন না। নগরীর পরিবেশকরা জানান, গত সপ্তাহে এক দিনেই প্রতি সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকার বেশি বেড়ে গেছে। কোম্পানির সরবরাহ সীমিত থাকায় চাহিদার মাত্র একভাগই মিলছে। ফলে বিক্রেতারা পরিবহন খরচ ও অতিরিক্ত মূল্যের চাপ সামলাতে ৫০-১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গাজীপুরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকারি এক হাজার ৭২৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রুবিনা বেগম জানান, আগে এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতেন, এখন দুই হাজার ২০০ টাকায় দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, ডিলাররা বেশি দামে সরবরাহ করছেন। সিলেট এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, কোম্পানি এক হাজার ৮৪০ টাকায় আমাদের সিলিন্ডার বিক্রি করছে, আমরা সরকারি দামে তা বিক্রি করতে পারছি না।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজারে ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায়।