চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রোববার (আজ) সকাল আটটা থেকে এ কর্মসূচি চলছে।
 

ধর্মঘটের কারণে বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সকালে সীমিত সময় জেটিতে কিছু পণ্য খালাসের কাজ চললেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বহির্নোঙরেও (আউটার অ্যাংকারেজ) পণ্য খালাসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
 

এবারের ধর্মঘটে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগের কর্মসূচিতে বহির্নোঙরে কার্যক্রম সচল থাকলেও এবার তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
 

এর মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে নিয়ে একটি জরুরি সভা আহ্বান করে। তবে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা সভা বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় সেখানে প্রত্যাশিত উপস্থিতি দেখা যায়নি।
 

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন। পরিষদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে পদ থেকে প্রত্যাহার, পূর্ববর্তী আন্দোলনের জেরে যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতি ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে সবাইকে স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহার।
 

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এর আগে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করা হয়। নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
 

অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের দপ্তরীয় চিঠিতে বিভাগভিত্তিক নির্দিষ্ট কোটা অনুযায়ী শ্রমিকদের সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে পরিবহন বিভাগ থেকে ৫০ জন, মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে ৮০ জন, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০ জন করে, অর্থ ও হিসাব বিভাগ থেকে ১৫ জন, পরিদর্শন বিভাগ থেকে ৫ জনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক শাখা থেকে প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রধান কল্যাণ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে আরও ১০০ জন শ্রমিক মনোনয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
 

তবে শ্রমিক নেতারা জানান, প্রশাসনের প্রতি চরম অনাস্থা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে তারা এ সভায় অংশ নিতে রাজি নন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সভা বর্জনের আহ্বান জানালে অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী তাতে সাড়া দেন।
 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।