মাদারগঞ্জে কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন অচল, মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৮৯ বার পঠিত
মাদারগঞ্জে কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন অচল, মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য

মোঃ আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে, যা জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ বাড়িয়ে তুলছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮০ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার চর শুভগাছা এলাকায় ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। শহরের বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। তবে নির্মাণ শেষে সেটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্মাণকাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মান বজায় না রাখার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে ডাম্পিং স্টেশনটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে জানা গেছে। ফলে হস্তান্তরের পরও এটি চালু করা যায়নি।

বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পাইপসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।

ডাম্পিং স্টেশন অচল থাকায় পৌরসভার বর্জ্য এখন জামালপুর-মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে আশপাশের পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

পৌরসভার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এত টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজে লাগছে না। বরং শহরের ময়লা এখন মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”

চর শুভগাছা এলাকার বাসিন্দা সাহিদুর রহমান বলেন, “অচল ডাম্পিং স্টেশনটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হয়ে গেছে। দ্রুত এটি চালু না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অনিয়মের কারণে জনগণ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের দিকে প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন চালু না হওয়ার পেছনে প্রশিক্ষণের অজুহাতকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ডাম্পিং স্টেশনটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনটি চালু করে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়বে।