বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পরও সরকার জনগণের কষ্ট বিবেচনা করে দেশে দাম খুব সামান্যই বাড়িয়েছে।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে ইতোমধ্যে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার সমানুপাতে দাম না বাড়িয়ে সীমিত সমন্বয় করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সরকার নিজেই বহন করছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, আজ রোববার থেকে দেশব্যাপী নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা।
এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা।
নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের আগে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য ছিল ১২০ টাকা এবং পেট্রোলের মূল্য ছিল ১১৬ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১২ টাকা এবং ডিজেলের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা।