স্পোর্টস ডেস্ক:
ফ্রান্সের বিপক্ষে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে মরক্কোকে। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর এবারও ফরাসিদের কাছে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে এবার তাদের যাত্রা শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি কাজে লাগাতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড নিখুঁত শটে মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন।
তবে ম্যাচ শেষে গোলটি নিয়ে আপত্তি জানান মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওহাবি। তার দাবি, এমবাপ্পের গোলের ঠিক আগে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর হাতে বল লেগেছিল। সে সময় মরক্কোর খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের আবেদন জানালেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই এমবাপ্পে গোল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওহাবি বলেন, “হ্যান্ডবল হয়েছিল বলে কয়েকজন খেলোয়াড় খেলা থামিয়ে দিয়েছিল। আমার বিশ্বাস, সেখানে নিশ্চিতভাবেই হ্যান্ডবল হয়েছিল।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। ওহাবি বলেন, “ওই পরিস্থিতিতে বাঁশি বাজানো উচিত ছিল কি না, সেটা আমি নিশ্চিত নই। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থেকেই গোলটি এসেছে।”
অন্যদিকে রেফারিং বিশ্লেষক হুয়ান গুজম্যান মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ঘটনাটি হ্যান্ডবল হলেও তা ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং গোলের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। পাশাপাশি ওই মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণও ফ্রান্সের কাছে ছিল না, তাই খেলা থামানোর প্রয়োজন ছিল না।
পরাজয়ের পরও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি মরক্কো কোচ। তিনি বলেন, “ফ্রান্স একটি অসাধারণ দল। তাদের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে এবং তারা আমাদের তুলনায় বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের পরিকল্পনায় কিছু ঘাটতি ছিল। বলের দখলে থাকলেও আমরা সেটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাই এই হার মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”
নিজের দলের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট ওহাবি। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা মাঠে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। খেলোয়াড়রা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে, এজন্য তাদের গর্বিত হওয়া উচিত।”