বসিলা–আদাবর–বেড়িবাঁধ এলাকায় ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ণ   |   ৩৬ বার পঠিত
বসিলা–আদাবর–বেড়িবাঁধ এলাকায় ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

রাজধানীর বসিলা, আদাবর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ কিশোর গ্যাং চক্র। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
 

সবশেষ শনিবার রাতে ঈদের চাঁদা দাবিতে আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটে। আদাবরের আবির ফ্যাশন নামের ওই কারখানায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে অন্তত তিনজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা আদাবর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
 

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কালা রাসেলসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 

এদিকে বসিলা তিন রাস্তার মোড় এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের চিত্র ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোর গ্যাং সদস্যরা পথচারীকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন আহত ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার পেছনে ‘কিলার বাদল গ্রুপ’ সক্রিয়ভাবে জড়িত।
 

একই দিন একই এলাকায় চাঁদা না দিলে পুরো মার্কেটের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির ঘটনাও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। এখানেও কিলার বাদল গ্রুপের নাম উঠে এসেছে।
 

স্থানীয়রা জানান, কিলার বাদল, মোল্লা কাউসার, গ্রেজ সোহেল, কালা ফারুক, বাত রাসেলসহ বিভিন্ন গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান ও বসিলা সিটি হাউজিং এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছে।
 

শনিবার রাতে চাঁদা না পেয়ে কালা রাসেল গ্রুপের সদস্যরা এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় হামলা চালায়। এতে একাধিক কর্মচারী আহত হন। ক্ষুব্ধ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কালা রাসেলের বাবাকে আটক করেন এবং পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবিতে আদাবর থানার সামনে জড়ো হন। এ সময় থানার সামনে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
 

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রতিটি এলাকায় আমাদের মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। যেকোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 

তিনি আরও জানান, ঈদকে সামনে রেখে কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দমনে পুলিশি নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হবে।