রামিসাকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে, ফরেনসিকে মিলল নতুন তথ্য

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ মে ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ   |   ৫১ বার পঠিত
রামিসাকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে, ফরেনসিকে মিলল নতুন তথ্য

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মিলেছে অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। সংগৃহীত ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাই শিশুটিকে নির্যাতন করেছিল। এছাড়া ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ার পূর্বে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

 

হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে। শনিবার সিআইডির (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে এই প্রতিবেদনগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষের দিকে এবং ইতিমধ্যে অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) এটি আদালতে পেশ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার পাশাপাশি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আসামি করা হচ্ছে।

 

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিডিএমএস) সমস্ত ডাটা এন্ট্রি করাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ নিরলস কাজ করছে।

 

এর আগে, গত বুধবার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার পূর্বে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। একই সাথে ঘটনার দিন কীভাবে রামিসাকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করা হয়, তার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি।

 

শনিবার (২৩ মে) একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী ঈদুল ফিতরের ছুটির পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে।

 

এদিকে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ঘটনার নৃশংসতা প্রমাণিত। আইনি সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সেরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার ডকেট আদালতে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।