লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ: প্রিন্স মামুনকে শোন অ্যারেস্ট, জামিন নামঞ্জুর

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৪:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ: প্রিন্স মামুনকে শোন অ্যারেস্ট, জামিন নামঞ্জুর

ঢাকা প্রতিনিধি:


 

যৌতুকের মামলায় কারাগারে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলায় গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
 

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন।
 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চৌধুরী রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান প্রিন্স মামুনকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন।
 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় নিজ বাসা থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে প্রিন্স মামুন তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনার ব্যবহৃত একটি শাড়ি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ঘটনার জন্য তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দায়ী করে বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

লাইভ সম্প্রচারটি দেখে তার স্ত্রী, স্ত্রীর মা, স্বজন এবং মামুনের বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
 

এ ঘটনায় আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
 

এর আগে একই দিনে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন মোহনা। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়।
 

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চৌধুরী রায় সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারার অভিযোগের প্রয়োজনীয় উপাদান বিদ্যমান নেই—এমন যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
 

তিনি বলেন, যদি অভিযুক্তকে প্রকৃতপক্ষে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হতো বা বিষপান করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হতো, তাহলে অভিযোগটি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারত। তবে বর্তমান ঘটনার বাস্তবতা সে ধরনের নয় বলেই আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
 

তিনি আরও জানান, আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করায় তারা উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।