সম্পত্তি বিরোধে মা-ছেলেকে হত্যা, দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে উদ্ধার কঙ্কাল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ মে ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ণ   |   ৫৯ বার পঠিত
সম্পত্তি বিরোধে মা-ছেলেকে হত্যা, দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে উদ্ধার কঙ্কাল

আজিজুর রহমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যার প্রায় দুই বছর পর বাড়ির পাশের একটি পুকুর খুঁড়ে মা ও তার শিশুপুত্রের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল নিহত কমলা বেগম (৩২) ও তার ছেলে মো. নোমানের (৯)।
 

নিহত কমলা বেগম একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই বিরোধের জের ধরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পিতভাবে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়।
 

সিআইডি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি গোপন করতে অভিযুক্তরা মা-ছেলের মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুরে মাটিচাপা দেয়। সে সময় শুকনো মৌসুম থাকায় পুকুরের তলদেশে মরদেহ চাপা দেওয়া সহজ হয়। পরে দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।
 

ঘটনার তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর নিহতের দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার পুকুরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার খনন শেষে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করা হয়।
 

কঙ্কাল উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
 

নোয়াখালী সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ও ইনচার্জ মো. রাইছুল ইসলাম বলেন, প্রথমে এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় জিআর মামলা রেকর্ড হয়। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
 

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 

এদিকে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কঙ্কাল উদ্ধারের সময় স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।