ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো রোববার রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তেল ও জ্বালানি বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, প্রাবোও রোববার সন্ধ্যায় দেশ ত্যাগ করবেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো গতকাল শনিবার জানান, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ জ্বালানি তেল বিষয়টি আলোচনার প্রধান এজেন্ডায় থাকবে।
তিনি বলেন, ‘তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং অবশ্যই জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’
প্রাবোও সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সফর করেছেন এবং তার বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেছেন, এসব সফরের উদ্দেশ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেল নিশ্চিত করার জন্য আমাকে সব জায়গায় যেতে হচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের মতো ইন্দোনেশিয়াও চাপের মুখে পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি, যা একটি তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তেল আমদানিকারক। দেশটি জ্বালানিতে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
গত মাসে প্রাবোওর সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জ্বালানি রেশনিং চালু করে এবং সরকারি কর্মচারীদের সপ্তাহে একদিন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়।
তবে সরকার জানিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই টলচেনভ গত মার্চ মাসে বলেছেন, তার দেশ ইন্দোনেশিয়ার কাছে তেল বিক্রিতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন হলে আমাদের জানান, আমরা সরবরাহ করব।’
গত বছর ইন্দোনেশিয়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস-এ যোগ দেয়। এই জোটে রাশিয়া ও চীনসহ অন্যান্য দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে প্রাবোও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন এবং তার তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস-এ যোগ দিয়েছেন।