সমাজকল্যাণ খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সরকার নতুন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো একক পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা, যেখানে একটি ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে জানা যাবে কোন পরিবার কী ধরনের সরকারি সুবিধা পাচ্ছে। এতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই কাঠামোতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কিউআর কোডভিত্তিক সেবা যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা একাধিক মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এক জায়গা থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে কয়েকটি এলাকায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। আগামী মাসগুলোতে আরও কয়েকটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি একক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্য রয়েছে। কৃষক, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা একই ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়ম কমে আসে।
ফারজানা শারমিন বলেন, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে একটি স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে উপযুক্তদের নির্বাচন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে। প্রয়োজনে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তি ও তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।