বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে সোনার দামে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।
সোমবার লেনদেনের শুরুতেই সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার ভোরে স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭৯৩.৯৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস (জুন ডেলিভারি) ১.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪,৮১৩.৬০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে ডলারের মান বেড়ে যাওয়াই সোনার দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সোনার দাম কমলেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।
টেস্টিলাইভ-এর গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, “গত সপ্তাহে যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাজার আশাবাদী ছিল, তা ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় সোনার দাম কমেছে।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আবারও ‘ওয়ার ট্রেড’ পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ডকে শক্তিশালী করেছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ০.৫ শতাংশ বেড়েছে।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ডলার ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে সোনার চাহিদা কমে যায়।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় পারস্য উপসাগরে নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার আগেই তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও নিম্নমুখী রয়েছে। স্পট সিলভার ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০.০৪ ডলারে নেমেছে এবং প্লাটিনাম ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ২,০৯৩.৫৬ ডলারে।