ডিভোর্স পেপার জালিয়াতি, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত বিয়ে মামলায় চূড়ান্তভাবে খালাস পেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।
বুধবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় ঘোষণার সময় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি এজলাসে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় আনীত কোনো অভিযোগই বাদীপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় আদালত তাঁদেরকে এই মামলা থেকে সসম্মানে খালাস দিয়েছেন।
এর আগে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, অবৈধ ব্যভিচার এবং সামাজিক মানহানির দণ্ডনীয় অভিযোগে ক্রিকেটার নাসিরের বিরুদ্ধে এই দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
মামলার নথিপত্র ও ইতিহাস অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল। তবে বিয়ের পরপরই দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং অভিযোগ ওঠে, তামিমা তাঁর আগের স্বামীকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই এই নতুন বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার আগের স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা চার্জ গঠন করে মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৬ মে আদালতে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত আইনি শুনানি শেষ হয়েছিল। সেদিন বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি অর্থাৎ ১০ জুন নির্ধারণ করেছিলেন। চূড়ান্ত শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করলেও আসামিপক্ষ তাঁদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেছিল, যা আজ আদালতের রায়ে মঞ্জুর হলো।