রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদকে হত্যা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ জুন ২০২৬ ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদকে হত্যা

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবদল নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪২)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই।
 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মাসুদ পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রথমে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি লাগে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে হামলাকারীদের একজন তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
 

খবর পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
 

স্থানীয়দের দাবি, সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গত এক বছর ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন মাসুদ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তিনি অংশ নিতেন।
 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মাসুদ। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন।
 

বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। মাসুদ বেতাগী বাজার সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী খেলার ঘাট এলাকার কয়েকটি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
 

নিহতের ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপন বলেন, “আমার ভাই ওষুধ কিনতে বাজারে গিয়েছিল। সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
 

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাসুদের মাথায় গুলি করার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
 

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
 

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিকেলে ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।