মুশফিকের ব্যাটে আলোর দিশা, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২১ মে ২০২৬ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
মুশফিকের ব্যাটে আলোর দিশা, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক

 

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার ঐতিহাসিক সাফল্যের পর বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে ছিল এক প্রশান্তিময় দৃশ্য। পুরস্কার বিতরণীর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পুরো দলকে তখন মনে হচ্ছিল এক সুখী পরিবার, যারা বড় অর্জনের আনন্দে ডুবে আছে। গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকল এই সিরিজ জয়।
 

দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে এসেছে এই সাফল্য। তবে আলাদা করে আলোচনায় ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দুই টেস্টেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন তিনি। ঢাকা টেস্টে ৭১ ও ২৩ রান করার পর সিলেট টেস্টে করেন ২২ ও ১৩৭ রান। পুরো সিরিজে ২৫৩ রান করে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
 

২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার সিরিজসেরা হওয়ায় উচ্ছ্বসিত মুশফিক বলেন, দেশের হয়ে খেলতে পারাটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তিনি বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সহজ বিষয় নয়, এজন্য কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতার প্রয়োজন। ক্রিকেট উপভোগ করেই তিনি এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।
 

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের লড়াইয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তিনি। মুশফিক জানান, লিটনের সেই ইনিংস পুরো ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেও সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন তিনি।
 

মুশফিকের মতে, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক ছিল এবং তাঁদের পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৪০০ থেকে ৪৫০ রান সংগ্রহ করা। পাশাপাশি বোলারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁরা নিজেদের মৌলিক পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেছেন বলেই সাফল্য এসেছে।
 

সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে উজ্জ্বল ছিলেন লিটনও। উইকেটের পেছনে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও কার্যকর স্লেজিংও নজর কাড়ে। নিজের ইনিংস নিয়ে লিটন বলেন, আগের ম্যাচে রান না পাওয়ায় তিনি চাপমুক্ত ছিলেন। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়কের কাছ থেকে আক্রমণাত্মক খেলার বার্তা পান। শুরুতে কয়েকটি বাউন্ডারি মারার পর ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ার দিকে মনোযোগ দেন।
 

টেলএন্ডারদের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিটন বলেন, নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে রান তোলা সহজ নয়। তবে তাঁদের নিরাপদ রেখে নিজের ইনিংসটাও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সিরিজে উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশের বোলিং বিভাগও। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ নেন পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদ রানা পাঁচ উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। আর সিলেট টেস্টে দাপট দেখান বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ইনিংসে ৬ ও ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।