রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলায় রশি পেঁচিয়ে ও পরে বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মচারী মিলন মল্লিক (২৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব কর্মকর্তারা।
র্যাব জানায়, ফাতেমাকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন মিলন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও নাইলনের রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, মিলন নিহত ফাতেমার বাবা সজিব মিয়ার রেস্তোরাঁয় আগে প্রায় এক বছর কাজ করে ছেড়ে দেন। গত দুই মাস ধরে তিনি আবারও ওই রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। রেস্তোরাঁর খাবার সজিব মিয়ার বাসায় রান্না হতো এবং মিলন নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন।
ঘটনার সময় ফাতেমার বাবা-মা ও ভাই জমি সংক্রান্ত কাজে হবিগঞ্জে ছিলেন। ছয় জানুয়ারি পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকায় রেস্তোরাঁর অন্য কর্মচারীরা ছুটিতে ছিলেন, তবে মিলন ছুটি না নিয়ে রেস্তোরাঁ খোলা রাখেন এবং খাবার আনা-নেওয়ার জন্য বাসায় যাতায়াত করেন।
র্যাবের তথ্যমতে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন বাসায় প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মিনিট পর ফাতেমার বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হয়ে যান। শোভা ব্যায়ামাগারে যান—এটি মিলন জানতেন। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন আবার বাসায় ঢোকেন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর বের হয়ে যান। এই সময়ের মধ্যেই ফাতেমাকে হত্যা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় র্যাব। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে মিলন বাসায় খাবার আনতে গিয়ে ফাতেমাকে আবারও অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে ফাতেমা তাকে গালিগালাজ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার দিন নাইলনের রশি দিয়ে ফাতেমার গলা চেপে ধরেন মিলন। ফাতেমা মেঝেতে পড়ে গেলে এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরের বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি।
হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথাও মিলন স্বীকার করেছেন বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা। অভিযুক্তের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও নাইলনের রশিও জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি টিনশেড বাসা থেকে ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সজিব মিয়া খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির ছায়াতদন্তে নামে র্যাব-৩। র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড় সিংগা এলাকা থেকে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।”