মীর হেলালই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ‌‘অ-পাহাড়ি’ প্রতিমন্ত্রী নন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ   |   ১৪ বার পঠিত
মীর হেলালই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ‌‘অ-পাহাড়ি’ প্রতিমন্ত্রী নন

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর ‘পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘন’ করে প্রথম কোনো ‘অ-পাহাড়ি’ এ পদে নিয়োগ করা হয়েছে বলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্ত প্রশাসনিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনিই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য সঠিক নয়।বিগত দুই দশকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অন্তত ৮ জন বাঙালি ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী শীর্ষ পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ‘অ-পাহাড়ি’ প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারসহ সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে। অন্য দাবিগুলো হলো—পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করা। দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা।

 

সংগঠনটি দাবি করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া। এই দপ্তর পুনর্বণ্টন করা।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন দীপেন দেওয়ান, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার রাঙ্গামাটির স্থায়ী বাসিন্দা। বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য ‘অ-পাহাড়ি’ হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে।

 

প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী , ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে লে. জে. (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী, লে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী এবং ড. ফখরুদ্দীন আহমদ পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

 

গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকারের একজন বাঙালি আইনজীবীকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কোনো চুক্তি লঙ্ঘন নয় বরং এটি একটি সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।

 

তারা বলছেন. ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক মাত্র। দেশের সার্বভৌম সংবিধান বা সংসদের কোনো বিধিবদ্ধ আইনকে পাশ কাটিয়ে একটি চুক্তি কখনো সরকারের প্রশাসনিক এখতিয়ারকে খর্ব করতে পারে না।