শেখ হাসিনা যে ভাবসাব ও প্রটোকল দেখাচ্ছেন এবং তাঁকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক মিডিয়া যা কিছু করছে, তার ফলে দেশে বসে কোনো অবস্থাতেই তাঁর এই মুভমেন্টকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেছেন, আমরা মুখে যত কথাই বলি না কেন, শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে।
যতই প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে দেশের অনেকের মধ্যেই ‘ফিরে আসা আতঙ্কে’ হাত-পা কাঁপছে এবং এটিই বর্তমান বাস্তবতা।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সমসাময়িক রাজনীতি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কিন্তু মোটেও বন্ধ নেই। আগস্ট মাসের ৫ কিংবা ৬ তারিখে বড়জোর তারা মুখ বন্ধ রেখেছিল, তবে ৭-৮ তারিখ থেকেই তাদের দ্বিধা কেটে গেছে। যে যার মতো করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের কথা বলে যাচ্ছে এবং একের পর এক নতুন কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দল পুনর্গঠন, ঝটিকা মিছিল, অফিস চালু করা, জামায়াত-বিএনপিকে নানা কৌশলে সাপোর্ট করা কিংবা তাদের মধ্যে গন্ডগোল লাগিয়ে দেওয়া সহ রাজনীতিতে চাণক্য নীতির যা কিছু আছে, তার সবকিছুই একটার পর একটা আওয়ামী লীগ করে যাচ্ছে। দেশের ভেতর এবং বাইরে, উভয় জায়গা থেকেই তাদের এই তৎপরতা চলছে।
সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত লোক বাংলাদেশের মধ্যে পালিয়ে বা বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন এবং একটি বিরাট অংশ যারা দেশের বাইরে আছেন, তারা সবাই মিলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনো নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশের সব বড় বড় ঠিকাদারি ও সরকারি কাজকর্ম সবই তাদের লাইসেন্সের মাধ্যমেই হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা বিএনপির লোকজনকে ব্যবসায়িক অংশীদার বানাচ্ছে, তাদের ঘুষ দিচ্ছে এবং তাদের চাঁদাবাজির চাহিদা পূরণ করছে, তবে ব্যবসার মূল চাবিকাঠি এখনো আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতেই রয়ে গেছে।
রনি আরও বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং আমলাতন্ত্রের মূল নিয়ন্ত্রণ এখনো আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতেই রয়েছে, যে যা-ই বলুক না কেন। সরকারের ওপরের দিকের প্রধান প্রধান পোস্টগুলোতে বিএনপির পছন্দের লোক বসিয়ে বিএনপিকে হয়তো সন্তুষ্ট রাখা হয়েছে, কিন্তু পুরো প্রশাসনিক চেইনটা এমনভাবে তৈরি করা আছে, যা ভাঙতে গেলে পুরো সিস্টেমটি ভেঙে পড়বে।