সাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ মার্চ ২০২৫ ০২:৪৪ অপরাহ্ণ   |   ৩৮৮ বার পঠিত
সাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার

মঈনুদ্দীন শাহীন ( ষ্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার:-

 

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় সাগরে নিখোঁজ থাকা বিজিবি সিপাহী মো. বিল্লাল হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর এলাকার বঙ্গোপসাগর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
 

নিহত বিল্লাল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিরতলা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে এবং শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
 

গত শুক্রবার গভীর রাতে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়। এতে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই সময় বিজিবি সদস্যসহ আরও কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন। গতকাল শনিবার এক শিশুসহ আরও চার রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, ফলে মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে।
 

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, "দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর সাগর থেকে বিজিবির সদস্যের মরদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে, সমুদ্রে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় তিনি নিখোঁজ হন। অবশেষে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।"
 

তিনি আরও জানান, "ঘটনার দিন খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালান এবং ২৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।"
 

নিহত বিজিবি সদস্যের ভাই আবু বকর জানান, "আমি ভাইকে খোঁজার জন্য টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কিন্তু খবর আসে, সাগরের চরে ভাইয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সাগরে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকা উদ্ধার অভিযানে গেলে নৌকাডুবির ঘটনায় ভাই নিখোঁজ ছিলেন। তখন আমাদের জানানো হয়েছিল যে, তিনিসহ ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন, এতে কিছু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল।"
 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, "নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ চার রোহিঙ্গার মৃতদেহ ভাসমান পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।"
 

স্থানীয়রা জানান, ২২ মার্চ শুক্রবার রাতে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা। পরে মাঝিমাল্লারা নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন। তখন বিজিবি সদস্যরা নৌকায় ওঠেন, কিন্তু সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যসহ রোহিঙ্গাদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানান, ডুবে যাওয়া নৌকায় অর্ধশতাধিক লোকজন ছিলেন। স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ঈমান হোসাইন ও আবুল মনছুর মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের পারাপার করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে।