বিসিএস নিয়োগে বড় সংস্কারের পথে পিএসসি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ   |   ৮১ বার পঠিত
বিসিএস নিয়োগে বড় সংস্কারের পথে পিএসসি

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট, ধীরগতি ও অনিশ্চয়তা দূর করে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও দ্রুতগতির ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে পিএসসি তাদের নতুন পরিকল্পনা ও সংস্কার কর্মসূচি প্রকাশ করে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন কমিশন তাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রতিবেদনে তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পিএসসি নিজস্ব প্রেস স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে, ফলে খাতা মূল্যায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। যেখানে আগে খাতা মূল্যায়নে প্রায় ছয় মাস লাগত, এখন তা কয়েক সপ্তাহে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিসিএস আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, একসময় পিএসসি প্রায় অকার্যকর অবস্থায় চলে গিয়েছিল। এখন প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, এই সংস্কারের মাধ্যমে মেধাবী প্রার্থীদের দ্রুত সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু বিসিএস নয়, নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও প্রযোজ্য হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফল প্রকাশ ও মূল্যায়নের সময় কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।