দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনি কে?

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০১:০৯ অপরাহ্ণ   |   ৭০ বার পঠিত
দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনি কে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি–এর ছেলে মোজতবা খামেনি–কে নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
 

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকলেও মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। বাবার শাসনামলে তিনি সচরাচর প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি। তবে পর্দার আড়ালে সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর সঙ্গে তাঁর সক্রিয় যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিশেষ করে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা বহুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। নাম ঘোষণার পরপরই তাঁকে পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদা ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি দেওয়া হয়।
 

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়–এর ইরান ও শিয়া ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর বলেন, মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় মোজতবা দ্রুত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
 

ভালি নাসর আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে গত দুই বছর ধরে তিনি তুলনামূলকভাবে আলোচনার বাইরে ছিলেন।
 

নতুন নেতা নির্বাচন করেছে ইরানের ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমের সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে থাকে। পরিষদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার সময় ইসরায়েল শিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র কোম শহরের একটি ভবনে হামলা চালায়। ঐতিহ্যগতভাবে পরিষদের সদস্যরা সেখানেই নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য একত্রিত হন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এদিন বৈঠকটি ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
 

বৈঠকে অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ আলেম মোজতবা খামেনিকে নেতা হিসেবে মনোনয়নের পক্ষে মত দেন। তাঁদের মতে, চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। কিছু আলেম আবার যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলেকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উত্তরাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও প্রতীক।
 

তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক মেহদি রাহমতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ। নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো পরিচালনা ও সমন্বয়ের বিষয়ে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। এরপর থেকেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ছিলেন ইরানের আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি এবং ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি হাসান খোমেনি। তাঁদের তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 

তবে কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করলেও মোজতবা খামেনি ভবিষ্যতে কিছু সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নিতে পারেন। তুলনামূলক তরুণ ও বাস্তববাদী প্রজন্মের একজন আলেম হওয়ায় কট্টরপন্থী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
 

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস