দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রস্তাবগুলো সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।\
বুধবার অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে মোট সাতটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছে।
রও তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব চালানের মধ্যে একটি সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি জ্বালানি কোম্পানি এবং বাকি দুটি সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছাবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালানগুলো ২৬-২৭ জুন, ৩০ জুন-১ জুলাই এবং ৬-৭ জুলাইয়ের মধ্যে আসার কথা রয়েছে।
শুধু তিন কার্গো এলএনজি আমদানির জন্যই সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৭২ কোটির বেশি টাকা।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ বর্তমানে আমদানিকৃত এলএনজির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন চালান সংগ্রহকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।