আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করে একটি আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আজ (সোমবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকার শিক্ষার্থীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটি দূর করতে চায়। এবারের এসএসসি ও সমমানের ব্যাচটি করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটিই তাদের জীবনের প্রথম পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা।
তিনি আরও বলেন, ‘সেকারণে পরীক্ষার হল যেন কোনোভাবেই আতঙ্কের কারণ না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথে যে সৃজনশীলতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তার প্রতিফলন পরীক্ষায় দেখা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো-ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুৎ (আইপিএস/জেনারেটর) ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
এছাড়া ছাত্রীদের যাতায়াত শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘœ রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন ও আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০’ সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে ডিজিটাল ক্রাইম এবং কেন্দ্র সচিবদের অবহেলার বিষয়টি শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘যানজট এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের অনুরোধে এবার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই খুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো আসন গ্রহণ করতে পারে।’
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়। তবে মূল্যায়ন যেন সঠিক হয় সেজন্য এবার পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রেন্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের মান যাচাই করা হবে।
কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্লাসরুমের শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্লাসরুমে পাঠদান ফলপ্রসূ হলে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এমনিতেই হারাবে। তবে পরীক্ষার সময় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকা- বা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সারাদেশে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিশেষ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাসিমুখে কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবার প্রতি শুভকামনা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।