খায়রুল হকের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ মে ২০২৬ ০৬:২৫ অপরাহ্ণ   |   ৫০ বার পঠিত
খায়রুল হকের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-এর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার (১৩ মে) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দাখিল করা হয়।
 

এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় করা দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে তার আইনজীবীরা জানান, বর্তমানে দায়ের হওয়া সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দ্রুতই আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
 

হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ জামিন আদেশ দেন। শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
 

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে ওই আদেশ দেন।
 

গত ৮ মার্চ চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও তিনি জামিন পান। এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। এরপর নতুন করে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
 

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
 

উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের মে মাসে অবসরের পর তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।